শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ ১২ : ৩৭ দুপুর

শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ ১২ : ৩৭ দুপুর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৬ পি.এম

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পর তবে কি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করছে দিল্লি?

ফাইল ছবি

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ভারত কি তবে রাশিয়ার তেলের বিকল্প খুঁজছে? মার্কিন চাপে মস্কো থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি ভারত কমিয়ে দিলেও, পুরোপুরি বন্ধ করার সম্ভাবনা এখনই নেই বলে ইঙ্গিত মিলছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তথ্যমতে, ভারতের কিছু তৈল শোধনাগারের কারিগরি কাঠামো রুশ তেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আমদানিতে রাতারাতি যতি টানা সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে:

  • পরিসংখ্যান: ২০২৩ সালের মে মাসে ভারত প্রতিদিন ২১ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কিনত। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা কমে ১১ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে তা আরও কমে ১০ লক্ষ ব্যারেল হতে পারে।

  • নির্দেশনা: শোধনাগারগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশ দেওয়া না হলেও বেসরকারিভাবে রুশ তেল কেনা কমাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে বড় কোনো বরাত (অর্ডার) দেওয়া হচ্ছে না।

বাণিজ্য সমঝোতার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। তবে শনিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, "ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনাই আমাদের কৌশলগত নীতি।"

ভারতের বড় শোধনাগার যেমন এইচপিসিএল বা রিলায়্যান্স ধাপে ধাপে আমদানিতে কাটছাঁট করলেও ব্যতিক্রম হতে পারে ‘নায়ারা এনার্জি’। এই সংস্থার ৪৯.১৩ শতাংশ শেয়ার রুশ সংস্থা রসনেফ্টের। ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্য কেউ তাদের তেল দিতে না চাওয়ায় তারা রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া থেকে তেল পুরোপুরি বন্ধ হলে ভারতের অর্থনীতিতে চাপ পড়বে। সেক্ষেত্রে ভেনিজুয়েলার ভারী ও সস্তা অপরিশোধিত তেল ভারতের জন্য একটি শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।