সোমবার ০৩, আগস্ট ২০২৬ ৩ : ১৭ অপরাহ্ণ

সোমবার ০৩, আগস্ট ২০২৬ ৩ : ১৭ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৩ এ.এম

থাইল্যান্ডের নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের জয়

থাইল্যান্ডের রক্ষণশীল দলের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়ের দাবি করেছেন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাতীয়তাবাদের ঢেউকে কাজে লাগিয়ে তার দল ‘ভুমজাইথাই পার্টি’ পার্লামেন্টে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে দলের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, ‘নির্বাচনে আমরাই প্রথম স্থান অধিকার করতে যাচ্ছি। আজকের এই জয় সকল থাই জনগণের।’

দেশটির সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল থ্রি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি প্রায় ২০০টি আসন জিততে পারে। প্রগতিশীল 'পিপলস পার্টি' ১০০টির কিছু বেশি আসন নিয়ে দ্বিতীয় এবং কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার 'পিউ থাই পার্টি’ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

আনুতিনের জন্য এটি একটি অভাবনীয় মোড়। গত নির্বাচনে তার দল তৃতীয় অবস্থানে ছিল এবং গত সেপ্টেম্বরে আদালতের নির্দেশে পিউ থাই পার্টির দুজন প্রধানমন্ত্রী অপসারিত হওয়ার পর তিনি পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

এদিকে, নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে পিপলস পার্টির নেতা নাথাফং রুয়েংপানিয়াউত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের নীতিতে অটল আছি যে, যারা প্রথম হবে আমরা তাদের সম্মান জানাব এবং সরকার গঠনের অধিকার তাদেরই থাকবে।’

সীমান্ত বিরোধ ও জাতীয়তাবাদ

অনেক ভোটারের মনেই কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে, যা গত বছর দুবার প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল। আনুতিনের শহর বুরিরামের একজন ভোটার বলেন, ‘আমাদের এমন একজন শক্তিশালী নেতা প্রয়োজন যিনি সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারবেন।’

ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই আনুতিন তার সরকারকে না জানিয়েই সীমান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে অনুমতি দিয়েছিলেন। কম্বোডিয়ার সঙ্গে গত ডিসেম্বরের লড়াইয়ের পর থাই সেনাবাহিনী কিছু বিতর্কিত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং বর্তমানে সেখানে যুদ্ধবিরতি চলছে।

নির্মাণ শিল্প সাম্রাজ্যের বিশাল উত্তরাধিকারী এবং সৌখিন জেট পাইলট আনুতিন বলেন, ‘ভুমজাইথাই পার্টির প্রত্যেকে তাদের হৃদয়ে জাতীয়তাবাদকে ধারণ করে।’ তিনি তার দলের নীল প্রতীকী রঙের দিকে ইঙ্গিত করে থাইল্যান্ডের পতাকার সাথে এর সাদৃশ্য তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে উবোন রাতচাথানি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক তিতিপোল ফাকদিওয়ানিচ এএফপি-কে বলেন, জাতীয়তাবাদকে পুঁজি করে ভুমজাইথাই পার্টি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলাফল করেছে।

থাকসিনের মুক্তি?

ভুমজাইথাই পার্টি ৫০০ আসনের নিম্নকক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সাথে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় আনুতিন আগেই জোট থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। বর্তমানে পিউ থাই পার্টিকে আনুতিনের সম্ভাব্য জোট সঙ্গী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুর্নীতির দায়ে থাকসিন বর্তমানে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই মুক্তি পেতে পারেন।

সাংবিধানিক গণভোট

থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাস সামরিক অভ্যুত্থান এবং বিচারবিভাগীয় নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত। ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানের পর সামরিক জান্তার প্রণীত সংবিধানে অনির্বাচিত সিনেটকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে রোববারের নির্বাচনে ভোট দেওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ নীতিগতভাবে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন।