প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৪ পি.এম
প্রশাসনের পক্ষপাত ও বিতর্কিত ‘ফোন নিষেধাজ্ঞা’: ইসিতে ১১-দলীয় জোটের কড়া নালিশ
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ এবং ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোট। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে জোটের নেতারা সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব অভিযোগ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেন যে, মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্দিষ্ট কোনো দলে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। তিনি আরও জানান:
শোকজ বনাম প্রত্যাহার: বিভিন্ন আসনে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ করা হলে রহস্যজনকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই প্রত্যাহার (উইথড্র) করে নেওয়া হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ: অভিযুক্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপকে ফোন দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
ইসির নিস্পৃহতা: জোটের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপসারণ ও পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও ইসি থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন:
খুলনার ডিআইজি এবং নাটোর ও শরীয়তপুরের এসপির ভূমিকা সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল নয়।
১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে ইসির জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে ‘সারপ্রাইজ’ এবং ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন আসিফ মাহমুদ। তবে জোটের নেতাদের তীব্র আপত্তির মুখে ইসি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, কমিশন তাঁদের সুনির্দিষ্ট ভাষায় নিশ্চিত করেছে যে এই নিষেধাজ্ঞা ইতিমধ্যেই প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট চিঠিও প্রস্তুত করা হয়েছে।
